Jan 21, 2019

সুখবর পাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করেছিলে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে নিজেদের ইশতেহারেও এই ইঙ্গিত দিয়েছিল একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলটি। ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছিল, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সরকারের নানা কল্যাণমুখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে, শিগগিরই এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে সরকার গঠনের পরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে এমপিও প্রদানের বিষয়টিও চিন্তা করবে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ ও এসডিজির আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) গোলাম মোহাম্মদ হাসিবুল আলমকে আহবায়ক করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের মধ্যে একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে উপস্থাপনের করবেন।
ওই কমিটি একটি বৈঠকেও করেছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। ভাষা জ্ঞান ও গণিত জ্ঞানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাষা ও গণিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদাবৃদ্ধিসহ সরকারের নানা কল্যাণমূখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সকল দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে তাদের উপযোগী পাঠ্যবই প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সকল গ্রামে, আধা-মফস্বল শহরে এবং শহরের নিম্মবিত্ত এলাকার স্কুলসমূহের পর্যায়ক্রমে সার্বজনীন করা হবে।
জানা গেছে, শিক্ষকদের বেতম গ্রেডের বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা আছে আওয়ামী লীগের। দেশের ৯৫ শতাংশ শিশুর মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এছাড়াও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ সরকার। ভাষাজ্ঞান ও গণিতজ্ঞানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের ভাষা ও গণিত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার চর্চা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র তৈরি করা হবে।

এসএসসির প্রশ্ন যাবে অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েলে

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠানো হবে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি ফয়েল পেপারের বিশেষ নিরাপত্তা-প্যাকেটে। যাতে ট্রেজারি বা ব্যাংকের ভল্ট থেকে কেন্দ্রে নেয়ার পথে কেউ প্রশ্নের প্যাকেট খুললে সহজেই ধরা পড়েন।

অপরদিকে পরীক্ষা সামনে রেখে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে একমাস বন্ধ থাকবে দেশের সব কোচিং সেন্টার। প্রশ্নফাঁস রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষমন্ত্রী ডা. দীপু মনি রবিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

এই সংবাদ সম্মেলনের আগে পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষা থেকে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেয়ার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করা হয় যে, প্রশ্নফাঁসের যে ঘটনা ঘটে সেটা এমসিকিউ প্রশ্ন কেন্দ্রিক। সৃজনশীল প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে না বললেই চলে।

আলোচনার একপর্যায়ে সারাংশ করা হয় যে, হুট করেই এমসিকিউ প্রশ্ন বন্ধ করা যাবে না। কমপক্ষে দু’বছর সময় নিয়ে ঘোষণা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণিতে যারা লেখাপড়া করে, তাদের এসএসসি পরীক্ষার সাল ধরে এমসিকিউ বন্ধের বছরটি নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে (এমসিকিউ বন্ধ) যথাসময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের এই পরীক্ষায় সর্বমোট ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে দাখিলে অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ১০হাজার ১৭২ জন। এসএসসি ভোকেশনালে পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২ জন। সারাদেশে মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৩ হাজার ৪৯২টি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার থাকবে। এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যদি বিশেষ কোনো কারণে কারও দেরি হয় সেই ক্ষেত্রে দেরির কারণ ও পরীক্ষার্থীর নাম ঠিকানা লিখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে আরেকটি পক্ষেপ হচ্ছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা। কেবল কেন্দ্র সচিব ক্যামেরাবিহীন ও ইন্টারনেট সংযোগ পায় না এমন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া পরীক্ষা ও প্রশ্ন বহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ কোনো মোবাইল ফোনই ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার কাজে জড়িত নন এমন কেউ কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। এসব নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি পেতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করব, সংশ্লিষ্ট সবাই সুষ্ঠু পরীক্ষা গ্রহণে সহায়তা করবেন।

ডা. দীপু মনি বলেন, নানা পদক্ষেপ নেয়ার ফলে ২০১৮ সালে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে ২০১৮ সালে নেয়া পদক্ষেপগুলো এবারও অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি আমরা নতুন আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হবে। প্রশ্নফাঁসের চেয়ে অতীতে গুজবই ছিল বেশি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজব রোধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত গুজব প্রতিরোধ কমিটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কাজ করবে। প্রশ্নফাঁসকারী ও গুজবকারীদের পাকড়াও করা হবে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার তীব্র নজরদারি অব্যাহত আছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জঙ্গি দমনে সরকার সফল হয়েছে। সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। প্রশ্নফাঁস বন্ধের এই লড়াইয়েও সরকার সফল হবে। আশা করছি, কেউ ফাঁস দূরের কথা, গুজব রটানোর অপচেষ্টাও করবেন না। কেননা, সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, একটানা দুবছর একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কেন্দ্র এবার পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বোর্ড এবং পুলিশ বিভাগ ও বিটিআরসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Jan 20, 2019

২৭ জানুয়ারি থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর পাঁচ দিন আগ থেকে শেষ পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, “এবার ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।”
রবিবার বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মনিটরিং ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্নফাঁস বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। আর পরীক্ষা শুরুর আগে ২৭ জানুয়ারি থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত (২৭ ফেব্রুয়ারি) সব কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গি দমন করতে পেরেছি। মাদক দমনেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাই প্রশ্নফাঁসও আমরা ঠেকাতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এবার আমরা বেশকিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। এর মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠাতে বিশেষ ধরনের খাম ব্যবহার করা হবে। এটি দেখে বোঝা যাবে খামটি আগে খোলা হয়নি। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। গুজব রটনাকারীদের সনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে তীক্ষ্ণ নজরদারি শুরু হয়ে গেছে। যারা আগেও এ কাজ করেছে বা প্রশ্নফাঁসে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এবার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সচেতনতামূলক তথ্যগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না। কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব পারবেন, তাও বাটন ফোন।’
দীপু মনি বলেন, এমনকি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে আমি অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন-বাংলা ব্যকরণ

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন

বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য বাক্য উচ্চারণের সময় বাক্যের মাঝে ও শেষে বিরতি দিতে হয়। এই বিরতির পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি হয়ে থাকে। আবার বাক্য উচ্চারণের সময় বিভিন্ন আবেগের জন্য উচ্চারণ বিভিন্ন হয়ে থাকে। বাক্যটি লেখার সময় এই বিরতি ও আবেগের ভিন্নতা প্রকাশ করার জন্য যেই চিহ্নগুলো ব্যবহার করা হয়, তাদেরকে বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন বা ছেদ চিহ্ন বলে।
প্রাচীন বাংলায় মাত্র দুইটি বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করা হতো, দাঁড়ি (।) ও দুই দাঁড়ি (॥)। পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ইংরেজি ভাষার অনুকরণে বাংলায় আরো অনেকগুলো বিরাম চিহ্ন প্রচলন করেন। বর্তমানে ব্যবহৃত বিরাম চিহ্নগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিরাম চিহ্ন নিচে দেয়া হলো-
যতি চিহ্নের নাম আকৃতি বিরতির পরিমাণ
কমা , ১ বলতে যে সময় লাগে
দাঁড়ি/ পূর্ণচ্ছেদ । এক সেকেন্ড
জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নসূচক চিহ্ন ? এক সেকেন্ড
বিস্ময়সূচক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন ! এক সেকেন্ড
ড্যাস – এক সেকেন্ড
কোলন ড্যাস :- এক সেকেন্ড
কোলন : এক সেকেন্ড
সেমি কোলন ; ১ বলার দ্বিগুণ সময়
উদ্ধরণ বা উদ্ধৃতি চিহ্ন ‘ ’/ ‘‘ ’’ এক সেকেন্ড
হাইফেন – থামার প্রয়োজন নেই
ইলেক বা লোপ চিহ্ন ’ থামার প্রয়োজন নেই
বন্ধনী চিহ্ন ( ) থামার প্রয়োজন নেই{ }[ ]
দুই দাঁড়ি ॥
ত্রিবিন্দু বা ত্রিডট …
বিরাম চিহ্নে্র ব্যবহার
কমা (,)
বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।
সেমিকোলন (;)
কমা-র চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি দেয়ার জন্য সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
আমরা সবাই সবাইকে ভালবাসি; আসলেই কি সবাই ভালবাসি?
এক ধরনের বাক্যন্তর্গত চিহ্ন
একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন বসে
বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্য সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন বসে
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (।)
প্রতিটি বাক্যের[] শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। দাঁড়ি দিয়ে বাক্যটি শেষ হয়েছে বোঝায়। যেমন-
আমি কাল বাড়ি আসবো।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
প্রশ্নবোধক বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
তুমি কেমন আছ?
বিস্ময়সূচক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন
বিস্মিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশের জন্য কিংবা অন্য কোন হৃদয়ানুভূতি প্রকাশের জন্য এই চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
আহা! কী চমৎকার দৃশ্য।
ছি! তুমি এত খারাপ।
হুররে! আমরা খেলায় জিতেছি।
আগে সম্বোধনের পরেও বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আধুনিক নিয়ম অনুযায়ী সম্বোধনের পরে কমা বসে। তাই পুরোনো লেখায় সম্বোধনের পরে বিস্ময়সূচক চিহ্ন থাকলেও এখন এটা আর লেখা হয় না। যেমন-
জননী! আজ্ঞা দেহ মোরে যাই রণস্থলে।
কোলন
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন- সভায় ঠিক করা হল : এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ড্যাস (-)
যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে দুই বা তারচেয়েও বেশি পৃথক বাক্য লেখার সময় তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহার করা যায়। যেমন-
তোমরা দরিদ্রের উপকার কর- এতে তোমাদের সম্মান যাবে না- বাড়বে।
কোনো কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়
বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে ড্যাশ চিহ্ন বসে
গল্পে উপন্যাসে প্রসঙ্গের পরিবর্তন বা ব্যাখ্যায় ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়
নাটক বা গল্প-উপন্যাসে সংলাপের আগেও ড্যাশ চিহ্ন বসে
কোলন ড্যাস (:-)
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগের জন্য কোলন ড্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার :- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।
হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন
সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, দুইটি পদ একসঙ্গে লিখতে গেলে হাইফেন দিয়ে লিখতে হয়। যেমন-
সুখ-দুঃখ, মা-বাবা।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন
কোন বর্ণ লোপ করে বা বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ বোঝাতে ইলেক বা লোপ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। কবিতা বা অন্যান্য সাহিত্যে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন-
মাথার ’পরে জ্বলছে রবি। (’পরে= ওপরে)
পাগড়ি বাঁধা যাচ্ছে কা’রা? (কা’রা = কাহারা)
উদ্ধরণ চিহ্ন
বক্তার কথা হুবুহু উদ্ধৃত করলে সেটিকে এই চিহ্নের মধ্যে রাখতে হয়। অর্থাৎ, প্রত্যক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের মধ্যে রেখে লিখতে হয়। যেমন-
ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছেন, ‘জন্মভূমি অথবা মৃত্যু’।
ব্র্যাকেট বা বন্ধনী চিহ্ন ( ).{ }. [ ]
গণিতশাস্ত্রে এই তিনটির আলাদা গুরচত্ব থাকলেও ভাষার ক্ষেত্রে এদের আলাদা কোন গুরচত্ব নেই। তবে সাহিত্যে ও রচনায় ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য প্রথম বন্ধনী ব্যবহার করা হয়। যেমন-
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে পরাজয় মেনে দলিলে স্বাক্ষর করে।
ব্যাকরণিক চিহ্ন
বিরাম চিহ্নের বাইরেও বাংলা ভাষায় কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এগুলো দিয়ে কোন বিরতি বা ছেদ বোঝানো হয় না। এগুলো ব্যাকরণের কতোগুলো টার্মস বোঝায়।
ব্যাকরণের বিভিন্ন তথ্য বা টার্মস বোঝাতে যেই চিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, সেগুলোই ব্যাকরণিক চিহ্ন।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উলেলখযোগ্য কয়েকটি ব্যাকরণিক চিহ্ন হলো-
বোঝায় চিহ্ন/ আকৃতি উদাহরণ
ধাতু √ √স্থা = স্থা ধাতু
পরবর্তী শব্দ হতে উৎপন্ন ˂ জাঁদরেল ˂ জেনারেল
পূর্ববর্তী শব্দ হতে উৎপন্ন ˃ গঙ্গা ˃ গাঙ
সমানবাচক বা সমস্তবাচক = নর ও নারী = নরনারী

বাংলা ব্যকরণ : ধাতু

ধাতু

বাংলা ব্যকর,   ধাতু

ক্রিয়ার মূল কিংবা এর যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা (দ্যোতনা=সূচনা, প্রকাশনা) করে, অথবা বিশ্লেষণ করা যায় না এ রকম যে ক্ষুদ্রতম ধ্বনি-সমষ্টি ক্রিয়ার বস্তু বা গুণ বা অবস্থান বুঝায় তাকে ধাতু বলে। যেমন- ‘করা’ ক্রিয়ার মূল ‘কর্‌’ একটি ধাতু।
ধাতুর প্রকারভেদ
ধাতু প্রধানত তিন প্রকার।
মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু
যে সকল ধাতু বিশ্লেষণ করলে কোন প্রত্যয় পাওয়া যায় না বা যারা সয়ংসিদ্ধ ধাতু, তাদেরকে মৌলিক ধাতু কিংবা সিদ্ধ ধাতু বলে। যেমন- _/কর্‌, _/চল, _/দেখ্‌।
সাধিত ধাতু
কোন মৌলিক ধাতু কিংবা নাম শব্দের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ধাতু গঠিত হয় তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন- _/কর + আ = _/করা, _/দেখ্‌ + আ = _/দেখা।
সংযোগমূলক বা যৌগিক ধাতু
বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদির সাথে যুক্ত হয়ে যে ধাতু গঠন করে তাকে সংযোগমূলক বা যৌগিক ধাতু বলে। যেমন- পূজা কর্‌, রাজি হ, কষ্ট পা, শাস্তি দে।
অন্যান্য ধাতুসমূহ
নাম ধাতু
নাম শব্দ অথ্যাৎ বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয় প্রভৃতি শব্দ কখনও কখনও প্রত্যয়যোগে, কখনওবা প্রত্যয় যুক্ত না হয়ে ক্রিয়ারূপে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ক্রিয়ার মূলকে নাম ধাতু বলে। যেমন- জুতা > জুতানো, বেত > বেতানো, হাত > হাতানো।
ণিজন্ত বা প্রযোজন ধাতু
মৌলিক ধাতুর সাথে ‘আ’ বা ‘ওয়া’ যুক্ত হয়ে ণিজন্ত বা প্রযোজন ধাতু গঠিত হয়। এটা এক ধরনের সাধিত ধাতু। যেমন- _/কর + আ =করা।
ধ্বন্যাত্মক ধাতু
ধাতুরূপে ব্যবহৃত অনুকার (অনুকার = সাদৃশ্যকরণ, অনুকরণ) ধ্বনিকে ধ্বন্যাত্মক ধাতু বলে। যেমন- ফোঁসা, হাঁপা, মচ্‌মচা, টল্‌টলা।
নঞ্‌র্থক ধাতু
‘অস্তি’ বাচক ‘হ’ ধাতুর পূর্বে নঞ্‌র্থক ‘ন’ শব্দের যোগে গঠিত ‘নহ্‌’ ধাতুকে নঞ্‌র্থক ধাতু বলে। যেমন- নহি, নই, নহ, নও, নহে, নয়।

Jan 19, 2019

Unemployment Problem:Essay

Unemployment Problem in bangladesh

Unemployment problem is the burning question of Bangladesh. It can be termed as number one problem of the country.

Bangladesh is a small country. But her population in not few. Fifteen cores of people live in this country. Most of them are poor. They live from hand to month. The population of our country is increasing at an alarming rate. The present growth rate of population in Bangladesh is 2.36%. The problem is now out of control.

Unemployment problem is very acute in our country. For one single vacant post there will be thousand of candidates. The production of food can not keep pace with our increasing population. As a result there us shortage of food in our country. People are fighting very hard against hunger and poverty.

Unemployment problem has become a common problem in day to life. Everybody we find the news of it in the dailies unemployment problem is now serious problem. It is going out of control day by day. It creates other problem too. It loses not only our life but also progress. The people have to suffer a lot.

We should come forward to control our population. Education must be ensured for all. The people of our country must be made conscious through education.

Man is the maker of his own fate. If we are idle we can not be prosperous. Some people think that the success in life depends on fortune. But it is not true. Hard labors are essential for success in every sphere of life. Industry is the key to success.

Human life is very short. But there a lot of things to do. That is say we have to do many things within a short time. So this every moment of life should be utilized properly.

Paragraph: A Cleaner Or Rubbish Collector

A Cleaner Or Rubbish Collector,A Cleaner,  Rubbish Collector

A man who collects rubbish everyday from our area is called rubbish collector or a cleaner. Generally, he has fresh mind and he works for the benefit of our society. He cleans our environment and always likes his work. He respects the work. He thinks that all jobs are important for us. To collect rubbish, he has to go in different houses of the area where he lives. Generally, he gets up early in the morning. Then he goes to collect the rubbish that the people keep in front of their houses. Several times, the rubbish becomes dirty but it does not give him any pain. He puts them in his plastic bag and keeps them in a big dustbin. He believes that all jobs have their own value. The life of a cleaner is full of pain and suffering. He cannot get proper food, shelter, cloth and education for his family. He leads an unhappy life. He is unable to educate his children and take a proper treatment. If he stops his working, the whole area will become dirty and unhealthy. So we should respect him and his work. Besides, our government should give him better salary.

বাংলা ব্যকরণ: পদ

পদ

পদ,বাংলা ব্যকরণ

বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।
বাক্যে যখন শব্দ ব্যবহৃত হয়, তখন শব্দগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য প্রতিটি শব্দের সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত শব্দাংশ যুক্ত হয়। এগুলোকে বলে বিভক্তি। যে সব শব্দে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি, সে সব শব্দেও একটি বিভক্তি যুক্ত হয়। একে প্রথমা বিভক্তি বা শূণ্য বিভক্তি বলে। ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তাতে বিভক্তি যুক্ত হতে হয়। আর তাই কোন শব্দ বাক্যে বিভক্তি না নিয়ে ব্যবহৃত হলেও তার সঙ্গে একটি বিভক্তি যুক্ত হয়েছে বলে ধরে নিয়ে তাকে শূণ্য বিভক্তি বলা হয়।
অর্থাৎ, বিভক্তিযুক্ত শব্দকেই পদ বলে।
পদের প্রকারভেদ
পদ প্রধানত ২ প্রকার- সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।
সব্যয় পদ আবার ৪ প্রকার- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও ক্রিয়া।
অর্থাৎ, পদ মোট ৫ প্রকার–
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
৫. অব্যয়
[শব্দের শ্রেণীবিভাগ হলো- তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। অন্যদিকে পদের শ্রেণীবিভাগ হলো- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়। দুইটিই ৫ প্রকার।]
যখন পর্যন্ত কোন শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না, তখনো সেটি কোন পদ নয়। কোন শব্দ কোন পদ হবে তা নির্ভর করে বাক্যে কিভাবে ব্যবহৃত হলো তার উপর। তাই কোন শব্দকে আগেই বিশেষ্য বা বিশেষণ বলে দেয়া ঠিক নয়। যেমন-
তোমার হাতে কি?
ডাকাত আমার সব হাতিয়ে নিয়েছে।
জঙ্গীরা হাত বোমা মেরে পালিয়ে গেলো।
প্রথম বাক্যে হাত শব্দটি বিশেষ্য। আবার দ্বিতীয় বাক্যে এই হাত শব্দটিই একটু পরিবর্তিত হয়ে ক্রিয়া হয়ে গেছে। আবার তৃতীয় বাক্যেই আবার হাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষণ হিসেবে।
[তবে প্রশ্নে শুধু শব্দ দিয়ে সেটি কোন পদ জিজ্ঞেস করলে সাধারণত শব্দটি যে পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেটি দিতে হবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিটি শব্দই সাধারণত একেক পদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সময় একেক রূপ নেয়। যেমন, ‘হাত’ শব্দটি বিশেষণ হিসেবে কোন বিভক্তি নেয়নি, কিন্তু বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সময় বিভক্তি নিয়েছে। আবার ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সময় প্রত্যয় নিয়েছে। এভাবে প্রশ্নের শব্দটিকে বিভিন্ন বাক্যে ব্যবহার করে কোন পদ নির্ণয় করা যেতে পারে।]
বিশেষ্য পদ
কোন কিছুর নামকেই বিশেষ্য বলে।
যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
প্রকারভেদ
বিশেষ্য পদ ৬ প্রকার-
১. নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
(ক) ব্যাক্তির নাম : নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল
(খ) ভৌগোলিক স্থানের নাম : ঢাকা, দিলিল, লন্ডন, মক্কা
(গ) ভৌগোলিক নাম (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদির নাম) : মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর
(ঘ) গ্রন্থের নাম : গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা, দেশেবিদেশে, বিশ্বনবী
২. জাতিবাচক বিশেষ্য :
(এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের নাম) মানুষ, গরু, গাছ, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য :
বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবন, পানি
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি) :
সভা, জনতা, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল
৫. ভাববাচক বিশেষ্য (ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব বা কাজের নাম বোঝায়) :
গমন, শয়ন, দর্শন, ভোজন. দেখা, শোনা, যাওয়া, শোয়া
৬. গুণবাচক বিশেষ্য :
মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ
বিশেষণ পদ
যে পদ বাক্যের অন্য কোন পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
অর্থাৎ, বিশেষণ পদ অন্য কোন পদ সম্পর্কে তথ্য বা ধারণা প্রকাশ করে, বা অন্য পদকে বিশেষায়িত করে।
কিছু বিশেষণ পদ : (‘একটি ফটোগ্রাফ’ কবিতা থেকে)
সফেদ দেয়াল
শান্ত ফটোগ্রাফ
জিজ্ঞাসু অতিথি
ছোট ছেলে
নিস্পৃহ কণ্ঠস্বর
তিনটি বছর (সংখ্যাবাচক বিশেষণ)
রুক্ষ চর
প্রশ্নাকুল চোখ
ক্ষীয়মাণ শোক
সহজে হয়ে গেল বলা (ক্রিয়া বিশেষণ)
প্রকারভেদ
বিশেষণ পদ ২ প্রকার- নাম বিশেষণ ও ভাব বিশেষণ।
১. নাম বিশেষণ :
যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষায়িত করে, অর্থাৎ অন্য কোন পদ সম্পর্কে কিছু বলে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন-
বিশেষ্যের বিশেষণ : নীল আকাশ আর সবুজ মাঠের মাঝ দিয়ে একটি ছোট্ট পাখি উড়ে যাচ্ছে।
সর্বনামের বিশেষণ : সে রূপবান ও গুণবান।
২. ভাব বিশেষণ :
যে বিশেষণ পদ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ছাড়া অন্য কোন পদকে বিশেষায়িত করে, অর্থাৎ অন্য কোন পদ সম্পর্কে কিছু বলে, তাকে ভাব বিশেষণ বলে। ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার-
ক্রিয়া বিশেষণ : ধীরে ধীরে বায়ু বয়। পরে এক বার এসো।
বিশেষণের বিশেষণ (কোন বিশেষণ যদি অন্য একটি বিশেষণকেও বিশেষায়িত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে) :
নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ : রকেটি অতি দ্রুত চলে।
অব্যয়ের বিশেষণ (অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে) : ধিক তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
বাক্যের বিশেষণ (কোন পদকে বিশেষায়িত না করে সম্পূর্ণ বাক্যটিকেই বিশেষায়িত করে) : দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।[না-বাচক ক্রিয়া বিশেষণ :
নি-
এখনো দেখ নি তুমি?
ফুল কি ফোটে নি শাখে?
পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন? রাখি নি সন্ধান
রহে নি, সে ভুলে নি তো
না-
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
রচিয়া লহ না আজও গীতি।
ভুলিতে পারি না কোন মতে।
নাই-
শুনি নাই, রাখি নি সন্ধান
নাই হল, না হোক এবারে
করে নাই অর্ঘ্য বিরুন?]
নির্ধারক বিশেষণ : দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করে যখন একের বেশি কোনো কিছুকে বোঝানো হয় তাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে। যেমন-
রাশি রাশি ভারা ভারা ধান (সোনার তরী)
লাল লাল কৃষ্ণচূড়ায় গাছ ভরে আছে।
নববর্ষ উপলক্ষে ঘরে ঘরে সাড়া পড়ে গেছে।
এত ছোট ছোট উত্তর লিখলে হবে না।
[বিশেষণবাচক ‘কী’
কী-শব্দটির একটি লক্ষণীয় দিক হচ্ছে বিশেষণ হিসেবে এর ব্যবহার।
যেমন, ‘একটি ফটোগ্রাফ’ কবিতায় :
এই যে আসুন, তারপর কী খবর?
নিজেই চমকে, কী নিস্পৃহ, কেমন শীতল।
কী সহজে হয়ে গেল বলা। (ক্রিয়াবিশেষণের বিশেষণ/ বিশেষণের বিশেষণ)]
[বিশেষণ সম্বন্ধ
পাথরের টুকরো
আমাদের গ্রামের পুকুর
গ্রীষ্মের পুকুর
শোকের নদী
আমার সন্তান]
বিশেষণের অতিশায়ন (degree)
বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের মধ্যে তুলনা বোঝায়, তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা শব্দের বা তদ্ভব শব্দের একরকম অতিশায়ন প্রচলিত আছে, আবার তৎসম শব্দে সংস্কৃত ভাষার অতিশায়নের নিয়মও প্রচলিত আছে।
ক) বাংলা শব্দের বা তদ্ভব শব্দের অতিশায়ন
১. দুয়ের মধ্যে অতিশায়ন বোঝাতে দুইটি বিশেষ্য বা সর্বনামের মাঝে চাইতে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, অপেক্ষা, ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। প্রায়ই প্রথম বিশেষ্যটির সঙ্গে ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) যুক্ত হয়। যেমন-
গরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি।
বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।
ব্যতিক্রম : কখনো কখনো প্রথম বিশেষ্যের শেষের ষষ্ঠী বিভক্তিই হতে, থেকে, চেয়ে-র কাজ করে। যেমন-
এ মাটি সোনার বাড়া। (সোনার চেয়েও বাড়া)
২. বহুর মধ্যে অতিশায়নে বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সর্বাপেক্ষা, সবথেকে, সবচেয়ে,সর্বাধিক, ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন-
তোমাদের মধ্যে করিম সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
পশুর মধ্যে সিংহ সর্বাপেক্ষা বলবান।
৩. দুয়ের মধ্যে অতিশায়নে জোর দিতে গেলে মূল বিশেষণের আগে অনেক, অধিক, বেশি, অল্প, কম অধিকতর, ইত্যাদি শব্দ যোগ করতে হয়। যেমন-
পদ্মফুল গোলাপের চাইতে বেশি সুন্দর।
ঘিয়ের চেয়ে দুধ বেশি উপকারী।
কমলার চাইতে পাতিলেবু অল্প ছোট।
খ) তৎসম শব্দের অতিশায়ন
১. দুয়ের মধ্যে তুলনা বোঝালে বিশেষণের শেষে ‘তর’ যোগ হয়
বহুর মধ্যে তুলনা বোঝালে বিশেষণের শেষে ‘তম’ যোগ হয়। যেমন-
গুরু- গুরুতর- গুরুতম
দীর্ঘ- দীর্ঘতর- দীর্ঘতম
[তবে কোনো বিশেষণের শেষে ‘তর’ যোগ করলে সেটা যদি আবার শ্রচতিকটু হয়ে যায়, শুনতে খারাপ লাগে, তখন বিশেষণটির শেষে ‘তর’ যোগ না করে বিশেষণের আগে ‘অধিকতর’ শব্দটি যোগ করা হয়। যেমন- ‘অধিকতর সুশ্রী’।]
২. আবার, দুয়ের মধ্যে তুলনা বোঝালে বিশেষণের শেষে ‘ঈয়স’ প্রত্যয় যুক্ত হয়
বহুর মধ্যে তুলনা বোঝালে বিশেষণের শেষে ‘ইষ্ঠ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন-
লঘু- লঘীয়ান- লঘিষ্ঠ
অল্প- কনীয়ান- কনিষ্ঠ
বৃদ্ধ- জ্যায়ান- জ্যেষ্ঠ
শ্রেয়- শ্রেয়ান- শ্রেষ্ঠ
[দুয়ের তুলনায় এই নিয়মের ব্যবহার বাংলায় হয় না। অর্থাৎ, বাংলায় লঘীয়ান, কনীয়ান, জ্যায়ান, শ্রেয়ান, ইত্যাদি শব্দগুলোর প্রচলন নেই। তবে ‘ঈয়স’ প্রত্যয়যুক্ত কতোগুলো শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ বাংলায় প্রচলিত রয়েছে। যেমন- ভূয়সী প্রশংসা।]
সর্বনাম পদ
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
অনুচ্ছেদে বা প্যারাগ্রাফে একই বিশেষ্য পদ বারবার আসতে পারে। সেক্ষেত্রে একই পদ বারবার ব্যবহার করলে তা শুনতে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। এই পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য বিশেষ্য পদের পরিবর্তে অনুচ্ছেদে যে বিকল্প শব্দ ব্যবহার করে সেই বিশেষ্য পদকেই বোঝানো হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
[সর্বনাম পদগুলো সব বিশেষ্য বা নামের পরিবর্তে বসতে পারে বলে এদেরকে ‘সর্বনাম’ বলে।]
‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ। এই দেশটি যেমন সুন্দর, এই দেশের মানুষগুলোও তেমনি ভালো। তারা এতোটাই ভদ্র ও মার্জিত যে, তাদের কাছে ভিখারি ভিক্ষা চাইতে আসলে তারা তাদের বিতাড়িত করে না। বরং মার্জিতভাবে বলে, মাফ করেন।’
উপরের অনুচ্ছেদে মূলত ৩টি বিশেষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশের মানুষ’ ও ‘ভিখারি’। এবং প্রথমবার উল্লেখের পর দ্বিতীয়বার কোন বিশেষ্যই আর উল্লেখ করা হয়নি। পরের বার থেকে ‘বাংলাদেশ’-র বদলে ‘এই দেশ’; ‘বাংলাদেশের (এই দেশের) মানুষ’-র বদলে ‘তারা’ ও ‘তাদের’ এবং ‘ভিখারি’-র বদলে ‘তাদের’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ্য পদের বদলে ব্যবহৃত এই শব্দগুলোই হলো সর্বনাম পদ।
প্রকারভেদ
সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ১০ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক : আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা
২. আত্মবাচক : স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি
৩. সামীপ্যবাচক : এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি
৪. দূরত্ববাচক : ঐ, ঐসব, সব
৫. সাকল্যবাচক : সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ
৬. প্রশ্নবাচক : কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : কোন, কেহ, কেউ, কিছু
৮. ব্যতিহারিক : আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
৯. সংযোগজ্ঞাপক : যে, যিনি, যাঁরা, যাহারা
১০. অন্যাদিবাচক : অন্য, অপর, পর
সাপেক্ষ সর্বনাম : কখনও কখনও পর্সপর সম্পর্কযুক্ত একাধিক সর্বনাম পদ একই সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে দুটি বাক্যের সংযোগ সাধন করে থাকে। এদেরকে বলা হয় সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন-
যত চাও তত লও (সোনার তরী)
যত চেষ্টা করবে ততই সাফল্যের সম্ভাবনা।
যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা।
যত গর্জে তত বর্ষে না।
যেই কথা সেই কাজ।
যেমন কর্ম তেমন ফল।
যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল।
ক্রিয়া পদ
যে পদ দিয়ে কোন কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
অর্থাৎ, বাক্যের অন্তর্গত যে পদ দ্বারা কোন কাজ সম্পাদন করা বা কোন কাজ সংঘটন হওয়াকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কাল অনুযায়ী ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন, ‘পড়্’ একটি ধাতু। এর সঙ্গে উত্তম পুরুষ ও সাধারণ বর্তমান কাল অনুযায়ী ‘ই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয় ‘পড়ি’ ক্রিয়াপদটি। আবার মধ্যম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ো’। নাম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ে’। আবার উত্তম পুরুষের জন্য ঘটমান বর্তমান কালের জন্য হবে ‘পড়ছি’। সাধারণ অতীত কালের জন্য হবে ‘পড়েছি’।
[ক্রিয়া পদ বাক্যের অপরিহার্য অঙ্গ। শুধু ক্রিয়াপদ নিয়ে একটি বাক্য গঠিত হতে পারে। কিন্তু ক্রিয়া পদ ছাড়া কোন বাক্য গঠিত হতে পারে না। তবে মাঝে মাঝে অনেক বাক্যের ক্রিয়াপদটি উহ্য থাকে। যেমন- ‘রমেশ আমার ভাই (হয়)।’ এই বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকে, এটি না লিখলেও সবাই বুঝতে পারে। আর তাই এটি লেখাও হয় না। কিন্তু এটা আবার ইংরেজি করলে ‘হয়’-র ইংরেজি লেখা হয়- Ramesh is my brother.
সাধারণত, ‘হ্’ ও আছ্’ ধাতু বা ক্রিয়ামূল দ্বারা গঠিত ক্রিয়া পদগুলো উহ্য থাকে।]
ক্রিয়ার প্রকারভেদ
১. সমাপিকা-অসমাপিকা ক্রিয়া
বাক্যের ভাব প্রকাশের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়াপদকে সমাপিকা ক্রিয়া ও অসমাপিকা ক্রিয়া, এই দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
সমাপিকা ক্রিয়া : যে ক্রিয়া পদ বাক্যের ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, যে ক্রিয়া পদ বাক্যকে সম্পূর্ণ করে, আর কিছু শোনার আকাঙ্ক্ষা বাকি থাকে না, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
একটি বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকতেই হয়। এবং একটি বাক্যে একটার বেশি সমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে না। যেমন-
ছেলেরা খেলছে। ছেলেরা খেলা করছে।
দ্বিতীয় বাক্যে ‘খেলা’ সমাপিকা ক্রিয়া নয়। এ জন্য ‘করছে’ সমাপিকা ক্রিয়া আনতে হয়েছে। নয়তো বাক্যটি সম্পূর্ণ হচ্ছে না।
অসমাপিকা ক্রিয়া : যে ক্রিয়া পদ দ্বারা বাক্যের ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্য সম্পূর্ণ হয় না, আরো কিছু শোনার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহারের পরও বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়। শুধু অসমাপিকা ক্রিয়া দিয়ে বাক্য গঠিত হয় না।
একটি বাক্যে যতোগুলো ইচ্ছা অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহার করা যায়। কিন্তু একটি সমাপিকা ক্রিয়া আনতেই হয়। যেমন-
ছেলেরা খেলা।
এখানে খেলা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া। ক্রিয়া পদ হলেও এটি দিয়ে বাক্যটি সম্পূর্ণ হয়নি, আরো কিছু শোনার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যাচ্ছে। এর সঙ্গে আরেকটি সমাপিকা ক্রিয়া ‘করছে’ যোগ করলেই কেবল বাক্যটি সম্পূর্ণ হবে।
ছেলেরা খেলা করছে।
সাধারণত অসমাপিকা ক্রিয়ার শেষে ইয়া, ইলে, ইতে, এ, লে, তে বিভক্তিগুলো যুক্ত থাকে।
২. সকর্মক-অকর্মক-দ্বিকর্মক ক্রিয়া
বাক্যে ক্রিয়ার কর্মের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়াপদকে অকর্মক, সকর্মক ও দ্বিকর্মক- এই ৩ ভাগে ভাগ করা হয়।
কর্ম পদ : যে পদকে আশ্রয় করে ক্রিয়া পদ তার কাজ সম্পাদন বা সংঘটন করে, তাকে কর্ম পদ বলে। অর্থাৎ, ক্রিয়া পদ কাজ করার জন্য যেই পদকে ব্যবহার করে, তাকে কর্ম পদ বলে।
ক্রিয়া পদকে ‘কী/ কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্মপদ। আর যদি উত্তর না পাওয়া যায়, তবে সেই ক্রিয়ার কোন কর্মপদ নেই। যেমন-
মেয়েটি কলম কিনেছে।
মেয়েটি হাসে।
এখানে প্রথম বাক্যে ক্রিয়াপদ ‘কিনেছে’কে ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘কলম’। (কী কিনেছে?- কলম) অর্থাৎ, প্রথম বাক্যের ক্রিয়ার কর্মপদ কলম।
আবার দ্বিতীয় বাক্যের ক্রিয়াপদ ‘হাসে’কে ‘কী/ কাকে’ কোনটা দিয়ে প্রশ্ন করলেই কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং, এই বাক্যের ক্রিয়াপদের কোন কর্ম নেই।
অকর্মক ক্রিয়া : যে ক্রিয়াপদের কোন কর্ম নেই তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
সকর্মক ক্রিয়া : যে ক্রিয়াপদের কর্ম পদ আছে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
দ্বিকর্মক ক্রিয়া : কখনো কখনো একটি বাক্যে একই ক্রিয়াপদের দুটি কর্ম পদ থাকে। তখন সেই ক্রিয়াপদকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। এক্ষেত্রে, বস্তুবাচক কর্মপদকে প্রধান বা মুখ্য কর্ম বলে এবং ব্যক্তিবাচক কর্মপদকে গৌণ কর্ম বলে। অর্থাৎ, বস্তুবাচক কর্মটিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন- ‘বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন।’
এখানে ‘কিনে দিয়েছেন’ ক্রিয়ার কর্মপদ দুটি, ‘আমাকে’ (কাকে কিনে দিয়েছেন?) ও ‘ল্যাপটপ’ (কী কিনে দিয়েছেন?)। এখানে বস্ত্তবাচক কর্মপদ ‘ল্যাপটপ’, আর ব্যক্তিবাচক কর্মপদ ‘আমাকে’। সুতরাং এখানে মুখ্য বা প্রধান কর্মপদ ‘ল্যাপটপ’ আর গৌণ বা অপ্রধান কর্ম ‘আমাকে’।
সমধাতুজ কর্ম : বাক্যের ক্রিয়াপদ ও কর্মপদ যদি একই ধাতু বা ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত হয়, তবে তাকে সমধাতুজ কর্মপদ বলে। অর্থাৎ, ক্রিয়াপদ ও কর্মপদ একই শব্দমূল থেকে গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্মপদ বলে। যেমন-
আজ এমন ঘুম ঘুমিয়েছি।
এখানে ক্রিয়াপদ ‘ঘুমিয়েছি’, আর কর্মপদ ‘ঘুম’ (কী ঘুমিয়েছি?)। আর এই ‘ঘুমিয়েছি’ আর ‘ঘুম’ দুটি শব্দেরই শব্দমূল ‘ঘুম্’। অর্থাৎ, শব্দ দুইটি একই ধাতু হতে গঠিত (ক্রিয়ার মূলকে ধাতু বলে)। সুতরাং, এই বাক্যে ‘ঘুম’ কর্মটি একটি সমধাতুজ কর্ম। এরকম-
আজ কী খেলা খেললাম। (খেল্)
আর মায়াকান্না কেঁদো না। (কাঁদ্)
এমন মরণ মরে কয়জনা? (মর্)
৩. প্রযোজক ক্রিয়া
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনায় আরেকজন করে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
প্রযোজক ক্রিয়ার দু’জন কর্তা থাকে। এরমধ্যে একজন কর্তা কাজটি আরেকজন কর্তাকে দিয়ে করান। অর্থাৎ, একজন যখন আরেকজনকে দিয়ে কোন কাজ করিয়ে নেয়, তখন সেই ক্রিয়াপদটিকে বলে প্রযোজক ক্রিয়া। [সংস্কৃত ব্যাকরণে এরই নাম ণিজন্ত ক্রিয়া।]
প্রযোজক ক্রিয়ার দুইজন কর্তার মধ্যে যিনি কাজটি করান, তাকে বলে প্রযোজক কর্তা। আর যিনি কাজটি করেন, তাকে বলে প্রযোজ্য কর্তা। তাকে দিয়ে কাজটি প্রযোজ্য করা হয় বলে তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন-
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
এখানে চাঁদ দেখার কাজটি করছে ‘শিশু’, কিন্তু চাঁদ দেখাচ্ছেন ‘মা’। অর্থাৎ, ‘মা’ কাজটি প্রযোজনা করছেন। তাই ‘মা’ এখানে প্রযোজক কর্তা। আর চাঁদ দেখার কাজটি আসলে ‘শিশু’ করছে, তাই ‘শিশু’ এখানে প্রযোজ্য কর্তা। এরকম-
সাপুড়ে সাপ খেলায়। (এখানে সাপুড়ে প্রযোজক কর্তা, আর সাপ প্রযোজ্য কর্তা)
৪. নামধাতুর ক্রিয়া
বিশেষ্য, বিশেষণ ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে ‘আ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে সব ধাতু গঠিত হয়, তাদেরকে নামধাতু বলে। নামধাতুর সঙ্গে ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে যেসব ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাদেরকেই নামধাতুর ক্রিয়া বলে।
যেমন-
বিশেষ্য = বেত+আ = বেতা, ক্রিয়াপদ = বেতানো, বেতাচ্ছেন, বেতিয়ে
বিশেষণ = বাঁকা+আ = বাঁকা, ক্রিয়াপদ = বাঁকানো, বাঁকাচ্ছেন, বাঁকিয়ে
ধ্বন্যাত্মক অব্যয় = কন কন+আ = কনকনা, ক্রিয়াপদ = কনকনাচ্ছে, কনকনিয়ে
বাক্যে প্রয়োগ- লোকটি ছেলেটিকে বেতাচ্ছে।
কঞ্চিটি বাঁকিয়ে ধর।
দাঁত ব্যথায় কনকনাচ্ছে। অজগরটি ফোঁসাচ্ছে।
ব্যতিক্রম : কয়েকটি নামধাতু ‘আ’ প্রত্যয় ছাড়াই ধাতু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন-
ফল = বাগানে এবার অনেক আম ফলেছে।
টক = তরকারি বাসি হলে টকে।
ছাপা = প্রকাশক তার বইটা এবার মেলায় ছেপেছে।
৫. যৌগিক ক্রিয়া
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া পাশাপাশি বসে যদি কোন বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যদি তাদের সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ঘটনাটা শুনে রাখ। (শোনার বদলে তাগিদ দেয়া অর্থ বুঝিয়েছে)
তিনি বলতে লাগলেন। (বলার অর্থ সম্প্রসারণ করে নিরন্তর বলা বুঝিয়েছে)
ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। (শোওয়ার পাশাপাশি দিনের কার্যসমাপ্তিও বোঝাচ্ছে)
সাইরেন বেজে উঠল। (আকস্মিক সাইরেন বাজার কথা বলা হচ্ছে)
শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে। (অভ্যস্ততা অর্থে, ধীরে ধীরে সংস্কারমুক্ত হয় বোঝাচ্ছে)
এখন যেতে পার। (যাওয়ার বদলে অনুমোদন অর্থে)
৬. মিশ্র ক্রিয়া
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতু যোগ হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন-
বিশেষ্যের পরে :
আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
গোল্লায় যাও।
বিশেষেণের পরে :
তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে :
মাথা ঝিম ঝিম করছে। ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।
[খেয়াল রাখতে হবে, যৌগিক ক্রিয়া দুইটি ক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়, যার একটি সমাপিকা ক্রিয়া আরেকটি অসমাপিকা ক্রিয়া। অন্যদিকে, মিশ্র ক্রিয়া বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে ক্রিয়াপদ বসে গঠিত হয়।]
পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপ
পুরুষ সাধারণ সম্ভ্রমাত্মক তুচ্ছার্থক/ ঘনিষ্ঠার্থক
উত্তম পুরুষ আমি যাই
আমরা যাই
——— ——–
মধ্যম পুরুষ তুমি যাও
তোমরা যাও
আপনি যান
আপনারা যান
তুই যা
তোরা যা
নাম পুরুষ সে যায়
তারা যায়
তিনি যান
তাঁরা যান
এটা যায়
এগুলো যায়
উত্তম পুরুষ : বাক্যের বক্তাই উত্তম পুরুষ। অর্থাৎ, যেই ব্যক্তি বাক্যটি বলেছে, সেই উত্তম পুরুষ। উত্তম পুরুষের সর্বনামের রূপ হলো- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের, ইত্যাদি।
মধ্যম পুরুষ : বাক্যের উদ্দিষ্ট শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। অর্থাৎ, উত্তম পুরুষ যাকে উদ্দেশ্য করে বাক্যটি বলে, এবং পাশাপাশি বাক্যেও উল্লেখ করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। মধ্যম পুরুষের সর্বনামের রূপ হলো- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, তোমাদিগকে, আপনি, আপনার, আপনাদের, ইত্যাদি।
নামপুরুষ : বাক্যে বক্তা অনুপস্থিত যেসব ব্যক্তি, বস্ত্ত বা প্রাণীর উল্লেখ করেন, তাদের নামপুরুষ বলে। অর্থাৎ, বক্তার সামনে নেই এমন যা কিছুর কথা বক্তা বাক্যে বলেন, সবগুলোই নামপুরুষ। নাম পুরুষের সর্বনামের রূপ হলো- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁকে, তাঁরা, তাঁদের, ইত্যাদি।]
অব্যয় পদ
অব্যয় শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘ন ব্যয়’, অর্থাৎ যার কোন ব্যয় নেই।
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে। অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
বাংলা ভাষায় ৩ ধরনের অব্যয় শব্দ ব্যবহৃত হয়-
১. বাংলা অব্যয় শব্দ : আর, আবার, ও, হাঁ, না
২. তৎসম অব্যয় শব্দ : যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্ত্তত।
‘এবং’ ও ‘সুতরাং’ এই দুটি অব্যয় শব্দও তৎসম, অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। তবে এ দুটি অব্যয় শব্দের অর্থ বাংলা ভাষায় এসে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সংস্কৃতে ‘এবং = এমন’ আর ‘সুতরাং = অত্যন্ত, অবশ্য’
বাংলায় ‘এবং = ও’ আর ‘সুতরাং = অতএব’
৩. বিদেশি অব্যয় শব্দ : আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা
অব্যয়ের প্রকারভেদ
অব্যয় পদ মূলত ৪ প্রকার-
১. সমুচ্চয়ী অব্যয় :
যে অব্যয় পদ একাধিক পদের বা বাক্যাংশের বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। এই সম্পর্ক সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন যে কোনটিই হতে পারে। একে সম্বন্ধবাচক অব্যয়ও বলে।
সংযোজক অব্যয় : উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। (উচ্চপদ, সামাজিক মর্যাদা- দুটোই চায়)
তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। (তাই অব্যয়টি ‘তিনি সৎ’ ও ‘সকলেই তাকে শ্রদ্ধা করে’ বাক্য দুটির মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে।
এরকম- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং, ইত্যাদি।
ক) বিয়োজক অব্যয় :
আবুল কিংবা আব্দুল এই কাজ করেছে। (আবুল, আব্দুল- এদের একজন করেছে, আরেকজন করেনি। সম্পর্কটি বিয়োগাত্মক, একজন করলে অন্যজন করেনি।)
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। (‘মন্ত্রের সাধন’ আর ‘শরীর পাতন’ বাক্যাংশ দুটির একটি সত্য হবে, অন্যটি মিথ্যা হবে।)
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।
খ) সংকোচক অব্যয় :
তিনি শিক্ষিত, কিন্তু অসৎ। (এখানে ‘শিক্ষিত’ ও ‘অসৎ’ দুটোই সত্য, কিন্তু শব্দগুলোর মধ্যে সংযোগ ঘটেনি। কারণ, বৈশিষ্ট্য দুটো একরকম নয়, বরং বিপরীতধর্মী। ফলে তিনি অসৎ বলে তিনি শিক্ষিত বাক্যাংশটির ভাবের সংকোচ ঘটেছে।)এরকম- কিন্তু, বরং, তথাপি, যদ্যপি, ইত্যাদি।
২. অনন্বয়ী অব্যয় : যে সব অব্যয় পদ নানা ভাব বা অনুভূতি প্রকাশ করে, তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। এগুলো বাক্যের অন্য কোন পদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন-
উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি! কী সুন্দর সকাল!
স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি প্রকাশে : হ্যা, আমি যাব। না, তুমি যাবে না।
সম্মতি প্রকাশে : আমি আজ নিশ্চয়ই যাব।
অনুমোদন প্রকাশে : এতো করে যখন বললে, বেশ তো আমি আসবো।
সমর্থন প্রকাশে : আপনি তো ঠিকই বলছেন।
যন্ত্রণা প্রকাশে : উঃ! বড্ড লেগেছে।
ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে : ছি ছি, তুমি এতো খারাপ!
সম্বোধন প্রকাশে : ওগো, তোরা আজ যাসনে ঘরের বাহিরে।
সম্ভাবনা প্রকাশে : সংশয়ে সংকল্প সদা টলে/ পাছে লোকে কিছু বলে।
বাক্যালংকার হিসেবে : কত না হারানো স্মৃতি জাগে আজ মনে।
: হায়রে ভাগ্য, হায়রে লজ্জা, কোথায় সভা, কোথায় সজ্জা।
৩. অনুসর্গ অব্যয় :
যেসব অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির কাজ করে, এবং কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাকে অনুসর্গ অব্যয় বলে। অর্থাৎ, যেই অব্যয় অনুসর্গের মতো ব্যবহৃত হয়, তাকে অনুসর্গ অব্যয় বলে। যেমন-
ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (এখানে ‘দিয়ে’ তৃতীয়া বিভক্তির মতো কাজ করেছে, এবং ‘ওকে’ যে কর্ম কারক, তা নির্দেশ করেছে। এই ‘দিয়ে’ হলো অনুসর্গ অব্যয়।)
[কারক ও বিভক্তি] [অনুসর্গ]
৪. অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় :
বিভিন্ন শব্দ বা প্রাণীর ডাককে অনুকরণ করে যেসব অব্যয় পদ তৈরি করা হয়েছে, তাদেরকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
মানুষ আদিকাল থেকেই অনুকরণ প্রিয়। তারা বিভিন্ন ধরনের শব্দ, প্রাকৃতিক শব্দ, পশুপাখির ডাক, যেগুলো তারা উচ্চারণ করতে পারে না, সেগুলোও উচ্চারণ করার চেষ্টা করেছে। এবং তা করতে গিয়ে সে সকল শব্দের কাছাকাছি কিছু শব্দ তৈরি করেছে। বাংলা ভাষার এ সকল শব্দকে বলা হয় অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়। যেমন-
বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়
তুমুল বৃষ্টির শব্দ- ঝম ঝম
স্রোতের ধ্বনি- কল কল
বাতাসের শব্দ- শন শন
নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম
সিংহের গর্জন- গর গর
ঘোড়ার ডাক- চিঁহি চিঁহি
কোকিলের ডাক- কুহু কুহু
চুড়ির শব্দ-টুং টাং
শুধু বিভিন্ন শব্দই না, মানুষ তাদের বিভিন্ন অনুভূতিকেও শব্দের আকারে ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি প্রকাশের জন্য তারা বিভিন্ন শব্দ তৈরি করেছে। এগুলোও অনুকার অব্যয়। যেমন-
ঝাঁ ঝাঁ (প্রখরতা)
খাঁ খাঁ (শূণ্যতা)
কচ কচ
কট কট
টল মল
ঝল মল
চক চক
ছম ছম
টন টন
খট খট
কিছু বিশেষ অব্যয়
১. অব্যয় বিশেষণ : কোন অব্যয় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষণের কাজ করলে, তাকে অব্যয় বিশেষণ বলে।
নাম বিশেষণ : অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
ক্রিয়া বিশেষণ : আবার যেতে হবে।
বিশেষণীয় বিশেষণ : রকেট অতি দ্রচত চলে।
২. নিত্য সম্বন্ধীয় বিশেষণ : কিছু কিছু যুগ্ম অব্যয় আছে, যারা বাক্যে একসাথে ব্যবহৃত হয়, এবং তাদের একটির অর্থ আরেকটির উপর নির্ভর করে। এদের নিত্য সম্বন্ধীয় বিশেষণ বলে। যেমন- যথা-তথা, যত-তত, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ-সে রূপ, ইত্যাদি। উদাহরণ-
যত গর্জে তত বর্ষে না।
যেমন কর্ম তেমন ফল।
৩. ত প্রত্যয়ান্ত বিশেষণ : ত প্রত্যয়ান্ত কিছু তৎসম অব্যয় বাংলায় ব্যবহৃত হয়। সংস্কৃততে প্রত্যয়টি ছিল ‘তস্’, বাংলায় তা হয়েছে ‘ত’। যেমন- ধর্মত, দুর্ভাগ্যবশত, অন্তত, জ্ঞানত, ইত্যাদি।

Jan 17, 2019

এইচএসসি প্রস্তুতি ♦ ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্র ♦ বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

চতুর্থ অধ্যায় : সংগঠিতকরণ

১।         সরলরৈখিক সংগঠনের সুবিধা হলো—
            i. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন
            ii. বিশেষায়ণের সুবিধা লাভ
            iii. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
            নিচের কোনটি সঠিক?
            ক) i ও ii                       খ) i ও iii
            গ) ii ও iii          ঘ) i, ii ও iii
২।     মেট্রিক্স সংগঠনে একত্রে কাজ করে—
            i. কার্যিক ব্যবস্থাপক
            ii. প্রজেক্ট ব্যবস্থাপক
            iii. সমন্বয় ব্যবস্থাপক
            নিচের কোনটি সঠিক?
            ক) i ও ii                       খ) i ও iii
            গ) ii ও iii          ঘ) i, ii ও iii
৩।        কোন সংগঠনটি Chain of Command অনুসরণ করে?
            ক) সরলরৈখিক
            খ) সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী
            গ) মেট্রিক্স        ঘ) কমিটি
৪।         পিরামিড আকৃতির সংগঠনের প্রবক্তা—
            ক) হেনরি ফেয়ল           খ) এফডাব্লিউ টেইলর
            গ) টেরি ও ফ্রাংকলিন     ঘ) হ্যারল্ড কুঞ্জ ও আইরিচ
৫।         সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠনের সীমাবদ্ধতা কোনটি?
            ক) কার্যভার বৃদ্ধি                                              খ) বিশেষজ্ঞ কর্মীর প্রতি অবজ্ঞা
            গ) কর্মীদের দক্ষতা হ্রাস                                    ঘ) স্বেচ্ছাচারিতা বৃদ্ধি
            উদ্দীপকটি পড়ে ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
            করিম সাহেব সোনালী স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপক। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বিভাগে আগুন লাগলে তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপককে প্রধান করে তিন সদস্যের গ্রুপকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেন।
৬।         করিম সাহেবের করা তিন সদস্যের গ্রুপটি নিম্নের কোন সংগঠনের অনুরূপ?
            ক) সরলরৈখিক             খ) সরলরৈখিক ও পদস্থ
            গ) কার্যভিত্তিক  ঘ) কমিটি
৭।         কত সালে মেট্রিক্স সংগঠন কাঠামোর ব্যবহার শুরু হয়?
            ক) ১৯১৬         খ) ১৯১৮
            গ) ১৯৬০         ঘ) ১৯৮০
৮।        কোনটি আস্থায়ী প্রকৃতির কমিটি?
            ক) পরিচালনা পর্ষদ       খ) তদন্ত কমিটি
            গ) নির্বাহী পর্ষদ            ঘ) শৃঙ্খলা কমিটি
৯। মেট্রিক্স সংগঠনের বৈশিষ্ট্য হলো—
            i. বৃহদায়তন ব্যবসায়ে ব্যবহার
            ii. সর্বাধুনিক উপযোগী সংগঠন কাঠামো
            iii. এতে দুই ধরনের নির্বাহী থাকে
            নিচের কোনটি সঠিক?
            ক) i ও ii                       খ) i ও iii
            গ) ii ও iii          ঘ) i, ii ও iii
১০।      কোনটি আধুনিক সংগঠন কাঠামো?
            ক) সরলরৈখিক             খ) সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী
            গ) কার্যভিত্তিক  ঘ) মেট্রিক্স
১১।       এফডাব্লিউ টেইলর কত সালে কার্যভিত্তিক সংগঠনের ওপর মত প্রকাশ করেন?
            ক) ১৬৮০        খ) ১৭৮০
            গ) ১৮৮০        ঘ) ১৯৮০
১২।       কোন সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য উপদেষ্টাকর্মী নিয়োগ করা হয়?
            ক) সরলরৈখিক খ) সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী
            গ) কার্যভিত্তিক ঘ) কমিটি
১৩।       জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন সংগঠন উপযোগী?
            ক) সরলরৈখিক                                     খ) কার্যভিত্তিক
            গ) উপদেষ্টা                               ঘ) কমিটি
১৪।       উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের সংগঠন উপযোগী?
            ক) সরলরৈখিক খ) কার্যভিত্তিক
            গ) উপদেষ্টা       ঘ) কমিটি
১৫।       দ্রব্য ও কার্যভিত্তিক বিভাগীয়করণের মিশ্র রূপ কোন ধরনের সংগঠন?
            ক) সরলরৈখিক                                                 খ) সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী
            গ) কার্যভিত্তিক ঘ) মেট্রিক্স
১৬। কোন সংগঠন কাঠামোর স্থায়িত্ব সবচেয়ে কম?
            ক) সরলরৈখিক             খ) কার্যভিত্তিক
            গ) সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা
            ঘ) কমিটি
১৭।       উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজ কোনটি? 
            ক) পরিকল্পনা          খ) সংগঠন             গ) কর্মীসংস্থান  ঘ) নির্দেশনা
১৮।      ‘নানা মুনির নানা মত’—কথাটি কোন সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
            ক) সরলরৈখিক খ) সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী
            গ) কার্যভিত্তিক  ঘ) কমিটি
১৯।       সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী সংগঠন নিচের কোন কারণে সরলরৈখিক সংগঠন থেকে উত্তম?
            ক) নির্বাহী কর্মভার লাঘব
            খ) দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
            গ) ব্যয় হ্রাস      ঘ) শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
২০।       প্রাচীন ও সহজ ধরনের সংগঠন কাঠামো কোনটি?
            ক) ম্যাট্রিক্স       খ) কমিটি
            গ) কার্যভিত্তিক  ঘ) সরলরৈখিক

বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর :  ২. ক ৩. ক ৪. ঘ ৫. খ ৬. ঘ ৭. খ ৮. খ ৯. ঘ ১০. ঘ ১১. ঘ ১২. খ ১৩. ঘ ১৪. খ ১৫. ঘ ১৬. ঘ ১৭. খ ১৮. ঘ ১৯. ক ২০. ঘ।